Showing posts with label freelancing. Show all posts
Showing posts with label freelancing. Show all posts

Freelancing নিয়ে কিছু টিপস-- Freelancing tips

 Freelancing: কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে মু্ক্তভাবে কাজ করাকে বোঝায়। যারা এধরণের কাজ করেন তাদের বলা হয় "মুক্তপেশাজীবী" (ইংরেজি: Freelancer)। এধরণের কাজে যেমন কোনো নির্দিষ্ট মাসিক বেতনভাতা নেই তেমনি
সবসময় কাজ পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে স্বাধীনমনা লোকদের আয়ের জন্য এটা একটা সুবিধাজনক পন্থা। আধুনিক যুগে বেশিরভাগ মুক্তপেশার কাজগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মুক্ত পেশাজীবীরা ঘরে বসেই তাদের কাজ করে উপার্জন করতে পারেন। এ পেশার মাধ্যমে অনেকে প্রচলিত চাকরি থেকে বেশি আয় করে থাকেন, তবে তা আপেক্ষিক। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হওয়াতে এ পেশার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি হাজারো ক্লায়েন্টের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে।

Freelancing নিয়ে কিছু টিপস

ফ্রিল্যান্সিং কাজের বিড করার জন্য ফ্রিল্যান্সারের পরামর্শ

ফ্রিল্যান্সিং কাজের বিড করার জন্য ফ্রিল্যান্সারের পরামর্শ

আপনি ডাটা এন্ট্রি অথবা গ্রাফিক ডিজাইন অথবা ওয়েব ডিজাইন যে ফ্রিল্যান্সিং কাজই করুন না কেন,  কাজ পাওয়ার জন্য বিড করতে হয়। প্রচলিত ভাষায় টেন্ডার বলতে পারেন। কাজের বর্ননা দেখে আপনি নিজের যোগ্যতা এবং কত টাকায় কাজটি করবেন জানাবেন। ক্লায়েন্ট সন্তোষজনক মনে করলে আপনাকে কাজ দেবেন।
নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য বিড করা কঠিন। যেহেতু নামের পাশে অভিজ্ঞতা নেই সেহেতু যোগ্যতা প্রকাশ করার কাজটি জটিল হয়ে দাড়ায়। যারা অভিজ্ঞ তারা অগ্রাধিকার পায়। সেইসাথে বিড করার সময় অনেকে ভুল করেন। এমনকি কত টাকায় কাজটি করবেন সেটা জানাতেও সমস্যায় পড়েন।
সব ফ্রিল্যান্সিং সাইট তাদের অভিজ্ঞতা থেকে এধরনের বিষয়ে পরামর্শ দেয়। ফ্রিল্যান্সার সাইটের বিড করার পরামর্শগুলি এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
.          কাজের বর্ননা ভালভাবে পড়ুন। পুরোপুরি বোঝার জন্য যতবার পড়া প্রয়োজন ততবার পড়ুন এবং নিশ্চিত হন সেখানে ঠিক কি বলা হয়েছে সেটা আপনি বুঝেছেন। ক্লায়েন্ট অনেক সময় এমন কোন বাক্য জুড়ে দেন যা সেই বিশেষ কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন। পুরোপুরি না বুঝে সেই কাজের জন্য বিড করবেন না।
.          যদি কোন বিষয় স্পষ্ট না হয় তাহলে বিড করার আগেই প্রোজেক্ট ক্লারিফিকেশন বোর্ডে প্রশ্ন করুন।  কাজ সম্পর্কে সবকিছু ভালভাবে না জেনে কাজ হাতে নেয়া ভাল পদ্ধতি না।
.          বিডে আপনার বক্তব্য স্পষ্ট করুন এবং সংক্ষিপ্ত রাখুন। কোন কাজের জন্য শতশত জন বিড করতে পারেন। ক্লায়েন্ট বেশি লেখা দেখলে সেটা এড়িয়ে যেতে পারেন।
.          আপনার কাজের শর্তগুলি স্পষ্ট করে প্রকাশ করুন। নমনীয় মনোভাব দুর্বলতা প্রকাশ করে। কাজ পাওয়ার জন্য অনুরোধ বা এই ধরনের কোন বক্তব্য প্রকাশ করবেন না।
.          বিড করার পর প্রাইভেট মেসেজে আপনার আরো তথ্য, বক্তব্য ইত্যাদি প্রকাশ করুন। বিড সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য যাকিছু প্রকাশ করতে পারেননি সেগুলি এখানে প্রকাশ করুন। এমন তথ্য তুলে ধরুন যেন তিনি আপনার প্রতি আগ্রহ দেখান।
.          প্রাইভেট মেসেজ হিসেবে আগের করা কাজের নমুনা দেয়া কাজ পাওয়া সহজ করতে পারে। আগের কোন ডিজাইন সেখানে আপলোড করলে তিনি আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা পাবেন। নমুনা দেখানোর সময় সবচেয়ে ভাল কাজ দেখাবেন, সংখ্যায় বেশি দেকাবেন না। আপনার কাজের মান গুরুত্বপুর্ন, কত সংখ্যায় করেছেন সেটা গুরুত্বপুর্ন না।
.          নিজের করা ডিজাইন, লোগো ইত্যাদি আপলোড করার সময় ওয়াটারমার্ক (নিজের নাম বা অন্যকিছু) রাখা ভাল। একদিকে সেটা চুরি করে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয় অন্যদিকে কাজটি আপনার সেটা নিশ্চিত করা যায়।
.          কাজের মুল্য ঠিক করার বিষয়ে সাবধানী হোন। সবচেয়ে কম টাকায় করতে চাইলে আপনি কাজ পাবেন এমন কথা নেই। অভিজ্ঞতা বেশি হলে বেশি টাকা চাইতে পারেন, নতুন অবস্থায় অভিজ্ঞের সমান টাকা চাইলে কাজ পাবেন না এটাই স্বাভাবিক। মাস এবং দাম দুইয়ের সামঞ্জস্য রাখুন।
.          যে কোন মুল্যে কাজ করতে হবে এমন মনোভাব প্রকাশ করবেন না। নিজের ওপর আস্থা রাখুন। আপনার যোগ্যতা থাকলে এক কাজ না পেলে আরেকটি পাবেন। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিজের অবস্থান ঠিক রাখুন।
.          বিড করার যাকিছু লিখেছেন সেটা ভালভাবে পড়ে নিন। কোন বানান ভুল আছে কিনা (অটো স্পেল চেকিং এর ব্যবস্থা আছে কিনা, বাক্য ঠিকমত লিখেছেন কিনা যাচাই করে নিন। ভুলভাবে লেখা বিড আগ্রহের অভাব, অমনোযোগিতা, খারাপ অভ্যাস ইত্যাদি প্রকাশ করে। এগুলি কাজ পেতে সমস্যা সৃষ্টি করে।

বলা হয় প্রথম কাজ পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলির গড় হিসেবে এজন্য ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আরো নির্দিষ্টভাবে সংখ্যায় যদি প্রকাশ হরেন তাহলে হিসেবটা এমন হতে পারে, আপনি দৈনিক তিনটি কাজে বিড করছেন, শতাধিকবার বিড করার পর আপনি প্রথম কাজ পেলেন। এটা আপনার একার হিসেব না, সারা বিশ্বের সব ফ্রিল্যান্সারের জন্যই সাধারন অভিজ্ঞতা।
কাজেই একেবারে নতুন অবস্থায় বিড করে বারবার অসফল হলে হতাস হবেন না। বরং কিভাবে আরো নিখুত বিড করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দিন।

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এবং স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং এর ভাল-মন্দ

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং এবং স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং এর ভাল-মন্দ

বাংলা টিউটর সাইটে মুলত অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে লেখা হয়। ফ্রিল্যান্সিং এর ভাল দিক, মন্দ দিক, কিভাবে ভাল করা যায় ইত্যাদি। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য পুরোপুরি ইন্টারনেটের কাজের ওপর নির্ভর করতে হবে এমন কথা নেই। স্থানীয়ভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজে বেশকিছু সুবিধে রয়েছে। কাজটি প্রচলিত হলেও ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি ব্যবহার করা হয় না সেকারনে অনেকের কাছে ভিন্ন শোনাতে পারে।
যারা গ্রাফিক ডিজাইনার, এনিমেটর, গ্রোগ্রামার বা লেখক তারা চাকরী করলেও তার বাইরে কারো কাজ করে অর্থ নেন। এটা ফ্রিল্যান্সিং। কেউ কেউ চাকরীর বদলে এভাবেই চলতে পছন্দ করেন। একেই স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং বিবেচনা করা হচ্ছে। এরসাথে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং কাজের তুলনামুলক আলোচনা করা হচ্ছে এখানে।


স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং এর ভাল দিক
.          স্থানীয়ভাবে কাজ করার প্রধান সুবিধে হচ্ছে যার কাজ করছেন তিনি একই সমাজের ব্যক্তি। ফলে তাকে বোঝা সহজ। কাজের ধরনও স্থানীয়। ফলে তুলনামুলক কম জেনেও কাজ করা সম্ভব।
.          স্থানীয় কাজ মোটামুটি একই ধরনের হয়ে থাকে। ফলে অন্যেরা কি করছে সেটা দেখে দ্রুত দক্ষতা বাড়ানো যায়। বিশেষ কিছু বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোই যথেষ্ট।
.          স্থানীয় ট্রেনিং সেন্টার গুলি স্থানীয় কাজের উপযোগি ট্রেনিং দেয়। ফলে কাজ জানা না থাকলেও শিখে নেয়ার সুযোগ থাকে।
.          বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পাওয়া যায় স্থানীয়ভাবে কাজ করে। ক্লায়েন্টে কাজ সময়মত করে দেয়ার দায়িত্ববোধ থেকে শুরু করে কাজের নানাদিক নিয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকে। বিপরীতভাবে অনলাইনে কাজ করার সময় পরীক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। তারা আশা করেন আপনি দক্ষতালাভ করেই কাজে হাত দিয়েছেন।

স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং এর মন্দ দিক
.          যোগাযোগ করা এবং কাজ সংগ্রহ করা কঠিন। ইন্টারনেটে কাজ খোজার জন্য কাজের একটি সাইটে যাওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কারো কাছ থেকে কাজ পাওয়ার জন্য নিয়মিত তারসাথে যোগাযোগ রাখতে হয়, কাজের খোজ রাখতে হয়, যাতায়াতে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। এরপরও অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজের দক্ষতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
.          স্থানীয় ফ্রিল্যান্সিং কাজে মজুরী কম। অনলাইনে কাজের সময় মজুরী হিসেব করা হয় ডলারে এবং সেটা উন্নত সমাজের মজুরীর সাথে মিল রেখে। তুলনা করে বলা যায়, অনলাইনে একটি লোগো ডিজাইন করে আপনি অনায়াসে ১০০ থেকে ৫০০ ডলার আয় করতে পারেন, বাংলাদেশে একই কাজের জন্য এই পরিমান অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
.          প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট কোন যায়গায় কাজ করিয়ে নিতে অভ্যস্থ। তার কাছ থেকে কাজ নেয়ার কাজ কঠিন। এমনকি একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে নিলক্ষেতের ডিজাইনারদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়।
.          স্থানীয়ভাবে কাজে নতুন কিছু করার সুযোগ নেই। প্রতিটি সমাজেই নির্দিস্ট একটি গন্ডির মধ্যে কাজ করা হয়। ক্লায়েন্টের মানষিকতা সেভাবেই পরিচালিত হয়। আপনাকেও তারসাথে মিল রেখে কাজ করে যেতে হয়।

আপনি কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং পছন্দ করবেন
আপনি কোন একটিকে বেশি পছন্দ করতেই পারেন। বিষয়টি অনেকটাই ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। যদি স্থানীয়ভাবে নিয়মিত কাজ পাওয়া যায় এবং চলনসই আয় হয় তাহলে সেটা করতে আপত্তি নেই। কাজেই যোগাযোগ ভাল থাকলে স্থানীয় কাজ পছন্দ করতে পারেন। আর এদিকে খুব ভাল করার সুযোগ না থাকলে অনলাইনে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সার ফ্রিল্যান্সারই। দুধরনের কাজের পথ খোলা রাখাই ভাল। বরং কোন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং পছন্দ করবেন তার উত্তরে এককথায় বলা যেতে পারে, স্থানীয়ভাবে কাজ করে দক্ষতা বাড়ান এরপর অনলাইনের কাজের দিকে চেষ্টা করুন।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারনা

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারনা

বাংলাদেশে কম্পিউটারের প্রসার নিয়ে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি নিজেদের কৃতিত্ব দাবী করেন। বাস্তবতা হচ্ছে এলিফ্যান্ট রোডের জুতা-জামাকাপড় ব্যবসায়ীরা একে
লাভজনক মনে করে এই ব্যবসায় হাত দিয়েছে এবং তারাই প্রসার ঘটিয়েছে। বর্তমানে সেখানে কম্পিউটার দোকানের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। এই সংখ্যাই এই বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট। তেমনি ইদানিং যারা ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং এর কল্যানে দেশ ধনী দেশে পরিনত হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন সে কৃতিত্বও কিছু সিডি নির্মাতার। তারা এগুলিকে পৌছে দিয়েছেন গ্রামে-গঞ্জে। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও একজন জানেন ইন্টারনেটে টাকা আয় করা যায়।
এধরনের বক্তব্যকে আকর্ষনীয় করতে এমন কিছু  বলতে হয় যা সহজে দৃষ্টি আকর্ষন করে। যেমন সহজে টাকা আয়, মাসে হাজার ডলার আয়, অল্প সময়ে আয়, ঘরে বসে আয় ইত্যাদি। ফল হিসেবে কিছু ভুল বিষয়ের প্রচলন হয়। এবং সেটা হয়েছেও। বহু ব্যক্তিকে দেখা যাবে যার কম্পিউটার নেই অথচ সিডির দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, টাকা আয়ের সিডি আছে ? অন্যদিকে যারা কিছুটা খোজখবর নিয়েছেন তারাও বিভ্রান্ত। যে কথাগুলি শিখেছেন তারসাথে বাস্তবতা মেলে না।
এধরনের প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা এবং তা থেকে উত্তরনের তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে এখানে।
.          ইন্টারনেটে সহজে টাকা আয় করা যায়
ইন্টারনেট ব্যবহার করে টাকা আয় করা যায়, এটুকু সত্য। সহজে করা যায় কি-না সে বিষয় যথেষ্ট সন্দেহ আছে। সহজ-কঠিন বিষয়টি আপেক্ষিক। জানলে সহজ না জানলে কঠিন, অনেকটা এধরনের বিষয়। যদি নির্ভলভাবে টাইপ করতে জানেন এবং কম্পিউটারের সাধারন কাজগুলি করতে পারেন তাহলে ডাটা-এন্ট্রি ধরনের কাজ করে আয় করা সম্ভব। একে সহজ না বলার কারন নেই। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি বিষয়টি যেমন সহজ এথেকে আয়ও তুলনামুলক কম। শুধুমাত্র ডাটা এন্ট্রি কাজ করে মাসে হাজার ডলার আয় করতে পারেন না।
সহজে আয় বলার সময় ক্লিক করে আয় বিষয়টাকে এত গুরুত্ব দেয়া হয় যে সকলের আগ্রহ সেখানে থেকে থাকে। এবিষয়ে আগে অনেকবার লেখা হয়েছে। নতুনভাবে না লিখে বরং এটুকু বলতে পারি, এভাবে বহু টাকা আয় করেছে এমন অন্তত একজনকে আগে খুজে বের করুন।
.          ইন্টারনেটে অল্প সময়ে আয় করা যায়
আপনি পড়াশোনা করছেন বা চাকরী করছেন, রাতে ঘন্টাখানেক সময় ব্যয় করলে বেশকিছু ডলার আয় করে নেয়া যাবে, এটাই প্রচলিত ধারনা। বাস্তবতা হচ্ছে আপনাকে ইন্টারনেটে কাজ দেয়ার অর্থই হচ্ছে আপনাকে যখন প্রয়োজন তখনই আপনার সাথে যোগাযোগ করা যাবে। যে কোন মুহুর্তে আপনাকে মেইল করে বা অন্যভাবে যোগাযোগ করা হতে পারে। সাথেসাথে উত্তর দিতে হবে। আপনাকে সেজন্য প্রস্তুত থাকে হয় সবসময়। কাজেই অবসর সময়ে কাজ করার বিষয়টি ভুল। বরং চারী করার যেমন নির্দিষ্ট সময় থাকে ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং কাজে সেটাও থাকে না। রাতে ঘুম থেকে উঠে ইমেইল দেখতে হয়।
বক্তব্য হচ্ছে, যদি একে পেশা হিসেবে নিতে চান তাহলে একেই মুল পেশা হিসেবে কল্পনা করুন। পার্টটাইম বা ওভারটাইম হিসেবে ভাল করার সম্ভাবনা নেই।
.          ইন্টারনেটে অনেক টাকা আয় করা যায়
কথাটি ঠিক এবং ভুল দুইই। কাজ যত উচুমানের আয় তত বেশি। অন্য কথায় মেধা এবং দক্ষতা যত বেশি আয় তত বেশি। কাজ যত সহজ আয় তত কম। উদাহরন হিসেবে ডাটাএন্ট্রি কাজে আয় কম, গ্রাফিক ডিজাইনে আয় তারথেকে বেশি, ওয়েব ডিজাইনে আয় তারথেকে বেশি।
বক্তব্য হচ্ছে, যদি বেশি টাকা আয় করতে চান তাহলে তারসাথে মিল রেখে বিষয় শিখুন।
.          বাংলাদেশ দ্রুত আউটসোর্সিংএ ভাল করতে যাচ্ছে
এই কথাগুলি কিছু মানুষ বলছেন যুগ যুগ ধরে। একসময় বলা হত ডাটা এন্ট্রি করে বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব, এরপর মেডিক্যাল ডাটা ট্রান্সক্রিপশন, ওয়াপ কনভার্শন, কল-সেন্টার এর সবগুলিই পর্যায়ক্রমে বলা হয়ে গেছে। কিছুদিন আউটসোর্সিং নিয়ে ঝড় তোলার পর ইদানিং ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে যাচ্ছেন। লক্ষ করলে দেখা যাবে মুল বক্তব্য এক, সময়ের সাথেসাথে কাজের নাম বদল হয়েছে এবং বাস্তবে কোনটাই হয়নি।
ফ্রিল্যান্সিং কোন ব্যক্তির জীবন পাল্টে দিতে পারে, সমাজ পাল্টাতে পারে কিন্তু সেখানে এইসব বিশেষজ্ঞের কোন ভুমিকা নেই। বরং তারা যদি ব্যাংকিং সহজ করেন ইন্টারনেটে লেনদেনের জন্য পেপল চালুর কথা বলেন সেটা কাজে দেবে। তারা এদিকে চোখ বন্ধ রাখেন।
বক্তব্য এটাই, বাংলাদেশ কি করতে যাচ্ছে একথা না ভেবে আপনি কি করতে পারেন সেদিকে দৃষ্টি দিন।
.          বাংলাদেশে যথেষ্ট দক্ষ জনবল আছে
একযুগ আগে বলা হয়েছিল বছরে ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরী করা হবে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে লক্ষাধিক প্রোগ্রামার থাকার কথা। বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে প্রোগ্রামিং ধারনাটিই তৈরী হয়নি। প্রোগ্রামারের কারখানা বলে কিছু নেই। বরং শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিনত করা হয়েছে। এরমধ্যে যারা দক্ষ হন তারা দক্ষতা বাড়ান নিজের চেষ্টায়। ব্লগ থেকে দক্ষতার একটি চিত্র তুলে ধরতে পারি, অনেকেই মন্তব্য লেখেন রোমান অক্ষরে বাংলায়। এর অর্থ তারা ইংরেজিতে লিখতে ভয় পান এবং বাংলা কিভাবে লিখতে হয় জানেন না। একে দক্ষতা বলে না। ইন্টারনেটে আয়ের জন্য যোগাযোগ করতে ইংরেজি ছাড়া বিকল্প নেই। তেমনি শেখার জন্যও ইংরেজি বই ছাড়া বিকল্প নেই। ১২ বছর বাধ্যতামুলক ইংরেঝি শেখানোর যখন এই অবস্থা তখন কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষার অবস্থান অনুমান করা যায়। যার শিক্ষক তাদের অনেকে জীবনে দুলাইন কোড চোখে দেখেননি। এখানেও শেষ কথা এটাই, যিনি আগ্রহি তাকে নিজের চেষ্টায় শিখে নিতে হবে। ইংরেজি এবং কারিগরী বিষয় দুটোই।
আরো বেশকিছু ভুল বর্তমান বাংলাদেশে প্রচলিত। আপনার কাছে উল্লেখ করার মত কিছু থাকলে অন্যদের জানাতে পারেন মন্তব্য লিখে।

ফ্রিল্যান্সিং : ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্কের ৫ নিয়ম

ফ্রিল্যান্সিং : ক্লায়েন্টের সাথে সম্পর্কের ৫ নিয়ম

প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে ক্রেতা ব্যবসার দেবতা। ক্রেতার ওপর নির্ভর করে ব্যবসার সাফল্য-ব্যর্থতা। কাজেই ক্রেতা যা বলবেন সেটাই ঠিক, বিক্রেতা হিসেবে আপনি সব কথায় সায় দিয়ে যাবেন। আপনি যখন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার সেবা বিক্রি করবেন তখন এই নিয়ম মেনে চলবেন এটাই স্বাভাবিক। ক্লায়েন্ট না থাকার অর্থ আপনার কাজ নেই, অন্যকথায় আয় নেই।
আপনার কাজ যদি লেখালেখি বা গ্রাফিক ডিজাইন বা এনিমেশন অথবা এইজাতিয় এমন কিছু হয় তাহলে বিষয়টি এত সরল থাকে না। আপনি আপনার জ্ঞান এবং মেধা ব্যবহার করে একটি ক্রিয়েটিভ ডিজাইন করলেন অথচ ক্লায়েন্টের মনে হল সেটা আনাড়ি কাজ। তিনি এমন কিছু চান যা আপনি নিজে থেকে কখবেন না। এটা খুবই স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা।
এধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন।

.          আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলুন
আন্তর্জাতিক নিয়ম হচ্ছে যে নিয়মের দেশকাল নেই, সব যায়গায় সমানভাবে স্বিকৃত। আপনি যখন ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করবেন তখন আপনাকে এই নিয়ম মেনে চলতে হয়। এখানে প্রচলিত নিয়মগুলি দেখে নিন। আপনি অবশ্যই একদিনে সব নিয়ম শিখে ফেলতে পারেন না। এজন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন হয়।
ফ্রিল্যান্সার এর মত কোন ওয়েবসাইটে সদস্য হোন। সেখানে কাজের জন্য আবেদন করুন অথবা সেখানে দেয়া কাজের বর্ননা দেখুন। লোগো ডিজাইন কাজকে উদাহরন হিসেবে ধরুন, সেখানে নির্দিস্ট করে বলে দেয়া হয় আপনাকে কোন কোন নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। যেমন, ধরন (টেক্সট, টেক্সট + ইমেজ, লোগো), রং (নির্দিষ্ট কি কি রং থাকবে, কি কি  রং থাকবে না), কোথায় কোথায় ব্যবহার হবে (ওয়েব পেজ, ব্যনার বিজ্ঞাপন,  লেটারহেড, সাইনবোর্ড) ইত্যাদি। কেউ কার্টুন পছন্দ করেন, কেউ থ্রিডি ইফেক্ট পছন্দ করেন, কেউ আবার সেগুলি চান না। আপনার কাজ যা-ই হোক না কেন, সেখানে সম্ভাব্য কি কি জানা প্রয়োজন হতে পারে তার একটি লিষ্ট তৈরী করুন। কাজের শুরুতে ক্লায়েন্টের কাছে সেগুলি জেনে নিন।
.          ক্লায়েন্টের মনোভাব বুঝুন
আপনি যত নিয়মই মানুন না কেন ক্লায়েন্ট যদি নিয়ম না মানেন তাহলে আপনাকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। স্থানীয়ভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজের একটি বড় অভিজ্ঞতা হচ্ছে শুরুতে তিনি বলবেন তিনি বিষয়টি বোঝেন না, আপনি পছন্দমত করে দিন। আপনি কাজ করার পর তিনি খুত ধরতে শুরু করবেন এবং ক্রমাগত মত পরিবর্তণ করতে থাকবেন। একসময় দেখা যাবে বিষয়টি কুড়ুলের জাউ এর মত দাড়িয়েছে। শুরু সাথে শেষের কোন সম্পর্ক নেই।
আপনি সকলের সাথে একই ধরনের আচরন করতে পারেন না। যদি ক্লায়েন্টের লক্ষ্য ঠিক না থাকে তাহলে নতুনা দেখিয়ে প্রথমে সেটা ঠিক করে নিন। পথের ধারের দোকানে যেভাবে  ডিকটেশন দিয়ে কাজ করানো হয় সেনিয়মে আপনি ভাল কাজ করতে পারেন না। টাইপিষ্ট এবং লেখক এক বিষয় না।
.          সময় নির্দিষ্ট রাখুন
শুরুতেই ঠিক করে নিন কাজটি কখন শেষ হবে, সেই সময়ের মধ্যে শেষ করুন। ক্লায়েন্টের কথায় সময় বাড়াবেন না (বিশেষ কারন না থাকলে)। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে একদিন দেরী করার অর্থ আরেকদিনের অন্য কাজের ক্ষতি করা। সমস্যা হচ্ছে কোন ক্লায়েন্টকে একবার এই সুযোগ দিলে তিনি তাতে অভ্যস্থ হয়ে যান।
.          কাজ শেষ করার আগে নমুনা দেখান
আপনি খুব ভালভাবে কাজ করেছেন, ক্লায়েন্ট সেখানে কিছু বলবে না একথা ধরে নেবেন না। সবসময়ই আপনার সাথে ক্লায়েন্টর কিছু পার্থক্য থাকে। ফাইনাল কাজ দেয়ার আগে তাকে নমুনা দিন, তার মত নিন। কিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন হলে করে নিন। অনেকে এজন্য বিশেষ নিয়ম মেনে চলেন, যেমন আপনার কাজে এমন একটু ত্রুটি রাখবেন যা সহজেই ক্লায়েন্টের চোখে পড়বে। এমনসময় তাকে নমুনা দেখাবেন যেন সেই ত্রুটি সংশোধনের বেশি কিছু বলার সুযোগ তিনি না পান। শুনে অবাক হতে পারেন, একথা নিজের বইতে লিখেছেন হলিউডের একজন বিশ্বখ্যাত এনিমেটর।
.          অর্থের বিষয়ে ছাড় দেবেন না
ফ্রিল্যান্সারের সবচেয়ে জটিল পর্ব অর্থ নেয়া। আপনি নিজের কাজ ঠিকভাবে করেছেন, ক্লায়েন্ট ঠিকভাবে অর্থ দেবেন একথা ধরে নিলে আপনাকে পথে বসতে হবে। আগেও একাধিক পোষ্টে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, আবারো বলতে হচ্ছে, কখনো বিনা টাকায় কাজ করবেন না, কখনো বাকি রাখবেন না। আপাতত সমস্যা, কদিন পর দেব, দুঘন্টা পর দেব এধরনের কথা যিনি বলেন তাকে সন্দেহের চোখে দেখবেন। পেমেন্টকে যিনি কাজের পরিকল্পনার মধ্যে রাখেননা তাকে ক্লায়েন্ট হিসেবে গুরুত্ব দেয়ার কারন নেই।

সাধারন কিছু নিয়ম সব কাজে যেমন থাকে তেমনি সব কাজেই ব্যতিক্রম থাকে। সেকারনেই ফ্রিল্যান্সারের অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। কাজে হাত দিয়েই কেউ সফল ফ্রিল্যান্সার হন না। ফ্রিল্যান্সার কিংবা ও-ডেস্ক এর মত জনপ্রিয় সাইটগুলির হিসেবে আপনি যোগাযোগ শুরু করলে প্রথম কাজ পেতে মাসদুয়েক লাগতে পারে। এরপর সময় বৃদ্ধির সাথেসাথে অভিজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞতার সাথে সফলতা, সবই বাড়তে থাকে।
আপনার কোন অভিজ্ঞতা যদি অন্যদের জানাতে চান জানাতে পারেন নস্তব্য লিখে।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ভাল এবং বেশি আয়ের কিছু পদ্ধতি

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ভাল এবং বেশি আয়ের কিছু পদ্ধতি

মানুষের জীবনযাপন, কর্মপদ্ধতি এসবের ওপর নির্ভর করে সাফল্য-ব্যর্থতা সমস্ত কিছুই। এমনকি মানষিক শক্তির ওপর নির্ভর করে শরীরের রোগ-বালাই কমবেশি হয় এটা পরীক্ষিত সত্য। যদি ফ্রিল্যান্সার সম্পর্কে একথা বলা হয় তাহলে সরল ভাষায়, ফ্রিল্যান্সারের সাফল্য-ব্যর্থতা পরিবর্তন হতে পারে সামান্য কিছু নিয়ম মেনে।
ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে এতটাই জনপ্রিয় যে অনেকে বলছেন আগামী দিনের অফিস হবে ফ্রিল্যান্স নির্ভর। আপনি চাকরীতে যোগ দেবেন না, বাড়িতে বসে পছন্দমত কাজ করবেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে একাজ করে সাফল্য লাভ করেছেন তারা তাদের ভুলগুলি থেকে অন্যদের সাবধান করেন, কিভাবে ভাল করা যায় পরামর্শ দেন। এধরনের কিছু পরামর্শ।
.          কাজের সময় কাজ, খেলার সময় খেলা
একথা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছেন। বাস্তবে ফ্রিল্যান্সার ধরে নেন যেহেতু তিনি নিয়মমাফিক কাজ করছেন না সেকারনে কিছুক্ষন কাজ কিছুক্ষন অন্যকিছু করলে সমস্যা নেই। বাস্তবে এতে মনসংযোগ নষ্ট হয় যার প্রভাব পড়ে কাজে।
সমাধান খুব সহজ। কাজের জন্য একটি এবং গেম, ভিডিও ইত্যাদির জন্য আরেকটি কম্পিউটার রাখুন। যখন বিনোদনের কম্পিউটারের সামনে বসবেন তখন যা ইচ্ছে হয় করুন, যখন কাজে বসবেন তখন সেগুলো ভুলে যান।
.          প্রতিমাসে দুএকদিন ছুটি নিন
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার সবদিনই ছুটির দিন হতে পারে। তারপরও নির্দিষ্টভাবে একদিন বা দুদিন ছুটি নিন। সেই সময় আদৌ কাজ নিয়ে ভাববেন না। কাজ এবং বিশ্রামের সম্পর্ক নিয়ে যারা গবেষনা করেন তাদের পরীক্ষিত ফল হচ্ছে কখনো কখনো কাজ না করলে কর্মদক্ষতা বাড়ে।
.          বাড়িতে অফিস তৈরী করুন
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সম্ভবত অধিকাংশ সময় বাড়িতে থেকেই কাজ করবেন। সেখানে একটি ঘরকে অফিস হিসেবে তৈরী করুন। পুরো ঘর ব্যবহার সম্ভব না হলে কাজের যায়গাটিকে এমনভাবে সাজান যেন সেটা অফিস বলেই মনে হয়। অফিসে যাকিছু প্রয়োজন সবকিছু হাতের কাছে রাখুন। সেখানে যতক্ষন থাকবেন তখন অফিসে আছেন বলে ভাবতে অভ্যেস করুন।
.          কাজের মধ্যে বিরতি দেবেন না
বাড়িতে বসে কাজ করার সমস্যা হচ্ছে চারিদিকে যাকিছু ঘটছে তারথেকে নিজেকে মুক্ত রাখা কঠিন। অন্যদের কাজের মধ্যে মনোযোগ দিতে হয়। এটা পরিহার করুন। যদি ১ ঘন্টা কাজ করতে চান এই ১ ঘন্টা অন্যদের থেকে পৃথক থাকুন। অন্যদের জানিয়ে দিন এই সময়ে কোন সমস্যা হলেও আপনি দেখবেন না।
.          দিনের কাজ শুরুতেই ঠিক করে নিন
ফ্রিল্যান্সার যখন ভিন্ন ভিন্ন ক্লায়েন্টের ভিন্ন ভিন্ন কাজ একসাথে করেন তখন কোন কাজ কখন করবেন হিসেব মেলানো জটিল হয়ে দাড়ায়। দিনের শুরুতে ঠিক করে নিন কোন কাজ কতটুকু সময়ে করবেন। এরফলে নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দেয়া সহজ হয়।
.          পড়াশোনা করুন
আপনি যে বিষয়ে কাজ করেন সে বিষয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করুন। বিভিন্ন ওয়েব সাইট থেকে পরামর্শ নিন। সেখানে এমন কোন পদ্ধতি শিখতে পারেন যা আপনার কাজকে অনেক সহজ করবে।
.          দাড়িয়ে থেকে কাজ করুন
একজন ফ্রিল্যান্সার কাজের জন্য তার মস্তিস্ক ব্যবহার করেন। দাতব্যথা, মাথাব্যথা ইত্যাদি কাজের সমস্যা করে একথা ভাবছেন কি ? বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। শারীরিক কষ্টের সময় মনসংযোগ করা সহজ হয়, সহজে মনে থাকে। আপনি ইচ্ছে করে শরীরে ব্যথা তৈরী করতে পারেন না একথা ঠিক। অনেকে বসে না থেকে দাড়িয়ে কাজ করেন। এমনকি কম্পিউটার টেবিল এমনভাবে বানিয়ে নেন যেখানে দাড়িয়ে কাজ করা যায়।
কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পদ্ধতি একেজনের কাছে একেক রকম। আপনার জন্য হয়ত অন্য কোন পদ্ধতি বেশি কার্যকর হতে পারে। সেই পদ্ধতি কি জানার চেষ্টা করুন।
আপনার বিশেষ পদ্ধতি অন্যদের জানাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সারের মেধা এবং যোগ্যতা

ফ্রিল্যান্সারের মেধা এবং যোগ্যতা

কোন ব্যক্তি কেবলমাত্র নিজের মেধা এবং যোগ্যতায় বড় বড় হয়েছে এমন গল্প সবাই পছন্দ করে। এধরনের গল্পের ওপর ভিত্তি করে সিনেমা তৈরী হয়। ফ্রিল্যান্সার খুব দ্রুতই বুঝে যান, অল্প সময়ে সাফল্যলাভের এসব ঘটনা আসলে নিয়মের ব্যতিক্রম। অধিকাংশ সাফল্যের জন্য প্রয়োজন হয় বহুদিনের শ্রম।
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সাফল্যলাভের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মেধা এবং যোগ্যতা কতটা কাজে লাগে সেটা দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে  এই পোষ্টে।


নিজের মেধা খোজ করুন
আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন তাহলে আপনার অবশ্যই কোন বিষয়ে মেধা আছে। মেধা না থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন কাজই করতে পারেন না। একচিমাত্র কাজও যদি করে থাকেন তাহলে আপনি মেধার পরিচয় দিয়েছেন।
আপনি যদি এখনও ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু না করেন, শুরু করার চিন্তাভাবনার পর্যায়ে থাকেন তাহলে হয় খোজ করছেন আপনার সত্যিকারের মেধা কোথায়। সেটা জানার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
.          আপনি কোন বিষয় সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন
স্বাভাবিকভাবেই এর উত্তর এমনকিছু হবে যেখানে আপনি মেধা ব্যবহারের সুযোগ পান। লেখালেখি আপনার জন্য বেশি উপযোগি নাকি গ্রাফিক ডিজাইন বা এনিমেশন বা অন্যকিছু আপনার পছন্দ সেটা জানার চেষ্টা চেষ্টা করুন।
.          অন্যরা আপনার মেধা সম্পর্কে কি বলে
অন্যেরা আপনাকে কোন বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন মনে করে সেটা জানা জরুরী। অন্যজনকে ক্লায়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করুন। ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে যোগ্যতাসম্পন্ন মনে করে তবেই আপনি কাজ পাবেন।
.          আপনি কি পছন্দের বিষয়ে যথেষ্ট সময় দিতে প্রস্তুত
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোন কাজ যখন বেছে নেবেন তখন সেখানে মুল সময় ব্যয় করা কি সম্ভব। কাজের ধরন অনুযায়ী আপনাকে অন্য কাজ, পরিবার, বন্ধু ইত্যাদি বিষয়ের দিকে সময় কমানো হতে পারে। আপনার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজে যথেষ্ট সময় এবং মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পাবেন।

মেধাকে উন্নত করুন
একবার নিজের মেধা সম্পর্কে জানার পর তাকে উন্নতির দিকে নিতে চেষ্টা করুন। মেধাকে যতটা ধারালো করবেন তাকে তত সার্থকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এজন্য যা করতে পারেন।
.          প্রাকটিস
ইংরেজিতে বলে প্রাকটিস মেকস পারফেক্ট। আপনি যত প্রতিভাবানই হোন না কেন নিয়মিত চর্চ্চা না করলে আপনি দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন না। খেলোয়াররা ভাল করার জন্য প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা অনুশীলণ করেন। আপনি যে কাজ করবেন সেকাজ আপনাকে প্রতিদিন সময় হিসেব করে প্রাকটিস করতে হবে।
.          শেখা
আপনার কোন বিষয়ে মেধা এবং দক্ষতা যত বেশিই হোক না কেন, সেখানে আরো কিছু শেখার সুযোগ থাকে। আপনার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে দক্ষ কাউকে দেখুন, তারকাছে শেখার চেষ্টা করুন।
.          অন্যের সাথে আলোচনা করুন
অন্যদের সাথে কাজের বিষয়ে আলোচনা করুন। এই বিষয়ে যাকিছু পান পড়ে দেখুন। অনেক সময়ই নতুন ধারনা কিংবা আইডিয়া কিংবা অনুপ্রেরনা পাওয়া যায় একেবারে অপ্রত্যাসিত যায়গা থেকে।

মেধাকে প্রকাশ করুন
আপনি নিজের মেধা কোন বিষয়ে চিহ্নিত করেছেন, তাকে আরো উন্নত করেছেন এবং আরো করছেন। এরসাথে তাকে প্রকাশ করাটাও জরুরী। আপনার মেধা বা যোগ্যতা অন্যের কাছে না প্যছানো পর্যন্ত তার স্বিকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
যেভাবে মেধার প্রকাশ ঘটাতে পারেন;
.          ওয়েব সাইট তৈরী করুন
বর্তমানে সবচেয়ে সহজে সারা বিশ্বে নিজের প্রচার করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালি, সহজ পদ্ধতি। আপনি লেখক হলে মুল লেখাগুলি সেখানে রাখুন, ফটোগ্রাফার হলে ভাল ছবিগুলি সেখানে রাখুন। বিনামুল্যে ওয়েবসাইট তৈরী করে সেখানে রাখার জন্য আপনাকে ওয়েবডিজাইনার হওয়া প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র ইচ্ছেই যথেষ্ট। ওয়ার্ডপ্রেস-ব্লগার ইত্যাদিতে সরাসরি কাজ শুরু করুন।
.          প্রচারের ব্যবস্থা করুন
অন্যকে না জানানো পর্যন্ত আপনার মেধার খবর কেউ জানছে না। আপনার দায়িত্ব তাকে অন্যের কাছে পৌছে দেয়া। সোস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন পর্যন্ত নানাভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করুন।
.          অন্যকে শেখান
অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে নিজের পরিচিতি যেমন বাড়ানো যায় তেমনি নিজের দক্ষতায় ঘাটতি থাকলে সেটা পুরন করা যায়। শেখানোর নানাবিধ পদ্ধতি রয়েছে। ওয়েবসাইটে টিউটোরিয়াল লেখা, বই লেখা থেকে শুরু করে সরাসরি কাউকে শেখানো পর্যন্ত। পদ্ধতিগুলি কাজে লাগান।

অমুক ব্যক্তি মেধাসম্পন্ন, একথার ওপর কি আপনার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে ?
ওপরের বিষয়গুলি বিবেচনায় এনে আপনি নিজেই উত্তর দিতে পারেন। অথবা উত্তরটা এমন ধরে নিতে পারেন, না। মেধা সাফল্যের প্রথম ধাপ মাত্র। একে সত্যিকারের ব্যবহারউপযোগি করা, প্রকাশ করা, প্রচার করা এবং তাকে ব্যবহার করে কাজ করার মধ্যেই সার্থকতা।
আপনি সমস্ত মেধা নিয়ে ঘুমিয়ে-আড্ডা দিয়ে জীবন কাটালেন, আপনাকে নিয়ে কি কারো কিছু যায়-আসে ?
আপনার যদি ভিন্ন বক্তব্য থাকে কমেন্ট লিখে জানাতে পারেন অন্যদের।

ফ্রিল্যান্সারদের ১০ ভয়

ফ্রিল্যান্সারদের ১০ ভয়

ফ্রিল্যন্সাররা অনেক বিষয়ে ইতস্তত করেন, কোন কোন বিষয়ে ভয় পান। পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চান না। স্বাভাবিকভাবেই ফল হিসেবে পিছিয়ে পড়তে হয়। এটা এতটাই স্বাভাবিক ঘটনা যে সবার ক্ষেত্রেই কমবেশি হয়।
আপনি এই বিষয়গুলিতে সচেতন থাকলে ভয়কে জয় করে সাফল্য পেতে পারেন।
.          কাজ না পাওয়ার ভয়
ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বড় ভয় ফ্রিল্যান্সার হলে কাজ পাওয়া যাবে না। বাস্তবে বলা হয় ফ্রিল্যান্সারের প্রথম কাজ পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। কাজেই কাজ পাওয়া শক্ত এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু কাজ পাওয়া যায় না একথা ঠিক না মোটেই। যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে তাদের দিকে দৃষ্টি দিন, অনেকেই আপনার চেয়ে কম দক্ষ। যে বিষয়ে তারা এগিয়ে তা হচ্ছে তারা ভয়কে জয় করে কাজে লেগে রয়েছেন।
.          ভাল কাজ না করার ভয়
আপনার মনে হতেই পারে আপনার কাজ দেখে ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হবেন না। আপনি যথেষ্ট ভালভাবে কাজ করতে পারবেন না। এটা যতটা বাস্তব ততটাই বাস্তব হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং কাজে লেখা, ডিজাইন ইত্যাদিতে ভালমন্দের পার্থক্য নির্নয় করা বিষয়টিই নির্ভর করে ব্যক্তির ওপর। অত্যন্ত দক্ষ কারো কাজের বদলে নতুন কারো কাজ বেশি পছন্দের হতে পারে।
.          বোকা হওয়ার ভয়
অন্যদের সামনে বোকা হওয়ার বিষয়টি লজ্জাজনক। ফ্রল্যান্সারের মনে হতেই পারে চেষ্টা করে কাজ পেলাম না এটা লজ্জাজনক, অন্যরা যদি জেনে যায়। বাস্তবে যারা সত্যিকারের কাজের মানুষ তারা স্বিকার করেন ব্যর্থতা সাফল্যের চাবিকাঠি। অন্যরা সত্যিসত্যি আপনাকে বোকা কিংবা অকর্মা কিনা সেটা কাজ করে দেখিয়ে দিন। অথবা বিষয়টিকে পুরোপুরি এড়িয়ে যান। যখন সাফল্য পাবেন তখন অন্যরা জানবে।
.          মেজাজি ক্লায়েন্ট নিয়ে ভয়
কোন ক্লায়েন্ট যদি পরিস্থিতি না বুঝে কথা বলেন সেটা সহ্য করে কাজ করা কঠিন। তারপরও, যারা নিয়মিত কাজ করান তারা কাজ করাতে জানেন। যদি তেমন লক্ষন দেখেন তাহলে বরং তাকে এড়িয়ে চলুন। আগেই কাউকে মেজাজি ধরে নেবেন না। অনেককেই দেখে যতটা কঠিন মনে হয় বাস্তবে তারা তা নন।
.          টাকা না পাওয়ার ভয়
কাজ করে টাকা পাওয়া যাবে না এটা ভুক্তভোগির ভয়। বাস্তবে এটা সবসময়ই ঘটে। ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সার, ও-ডেস্ক এর মাধ্যমে কাজ করলে অর্থপ্রাপ্তির বিষয় নিশ্চিত করে। আর নিজে যোগাযোগ করলে সেটা ঘটে অস্বিকার করার উপায় নেই।  কিভাবে অর্থ পেতে হয় সেবিষয়ে পৃথক লেখা রয়েছে বাংলা-টিউটর সাইটে। সাধারনভাবে বক্তব্য হচ্ছে, অর্থপ্রাপ্তি বিষয়ে সন্দেহ থাকলে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার আগে অর্থ বুঝে নিন। অর্থ না পাওয়ার ঘটনা একবার ঘটলে সেই বিশেষ ক্লায়েন্টের কাজ কখনো করবেন না।
.          অল্প অর্থে কাজ করার ভয়
কাজ করে সামান্য অর্থ পাওয়া যাবে এমন ধারনা তৈরী হওয়া অযৌক্তিক না। কাজ পাওয়ার সময় মুল্য কমানোর প্রতিযোগিতা যদি শুরু হয় তখন সেটা ঘটতেই পারে। বাস্তবতা হচ্ছে বেশকিছু কাজ করার পর আপনি সেগুলির উল্লেখ করে তারসাথে মানানসই অর্থ দাবী করতে পারেন।
.          দিনরাত কাজ করার ভয়
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে দিনরাত কাজ করার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বিষয়টি আপনার নিজের ওপর। আপনি কতটা কাজ নেবেন, কতটা সময় ব্যয় করবেন সেটা আপনিই ঠিক করে নিতে পারেন।
.          নিজের দক্ষতা থেকে সরে যাওয়ার ভয়
আপনি বিশেষ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, সেই বিষয়কে আপনি ভালবাসেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার তার ক্ষতির কারনে আপনার মনে ভয় থাকতে পারে। বাস্তবে ফ্রিল্যান্সিং দিনদিন এতটাই ব্যাপকতা লাভ করছে যেখানে যে কোন বিষয়েই ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায়।
.          একাকিত্বের ভয়
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাকে কাজ করতে হবে একা। বাস্তবে কাজ করার সময় অন্য কারো উপস্থিতি বরং কাজের ক্ষতিই করে। আপনি যদি সংগ পছন্দ করেন তাহলে একে সমস্যা মনে হতে পারে। বরং কাজের সময় ঠিক করে নিন। কখন কাজ করবেন, কখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবেন ইত্যাদি ঠিক করে সবদিক ঠিক রাখতে পারেন।
.          পরিচয় হারানোর ভয়
কাজের জন্য নিজের তথ্য দিতে হয়। এর অপব্যবহারের কারনে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এবং সেটা ঘটেও। কাউকে কতটুকু জানানো প্রয়োজন হিসেব করে যদি জানান তাহলে এই সমস্যা থেকে দুরে থাকতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং কাজে সমস্যা থাকে এভাবে না ভেবে বরং অনায়াসে ভাবতে পারেন, সব কাজেই সমস্যা থাকে। সমস্যা মোকাবেলা করেই সাফল্য পেতে হয়। যে হারে ফ্রিল্যান্সিং এগিয়ে চলেছে তাতে অনেকেই ধারনা করছেন বর্তমানের অফিস ব্যবস্থা থাকবে না, যে কেউ ঘরে বসেই কর্মী হিসেবে কাজ করবেন।
তাহলে আপনি আগে শুরু করার কৃতিত্ব থেকে দুরে থাকবেন কেন ?
আপনার নিজস্ব মত বা বক্তব্য থাকলে অন্যদের জানাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ১০ কৌশল

ফ্রিল্যান্সিং কাজে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ১০ কৌশল

একজন ফ্রিল্যান্সারের কাজে বেশি কাজ মানেই বেশি অর্থ। বেশি কাজ অর্থ এই না আপনাকে আরো কয়েক ঘন্টা বেশি সময় কাজ করতে হবে। কিছু কৌশল অবলম্বন করে কর্মদক্ষতা বাড়ানো সম্ভব এবং কম সময়েই বেশি কাজ করা সম্ভব।
সাধারনভাবে মানুষ বেশি কাজের জন্য বেশি সময় ব্যয় করে, অথবা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। দুটিতেই নিজের ওপর চাপ বাড়ে। বরং কর্মদক্ষতার সফল ব্যবহারের সাধারন কৌশলগুলি জেনে নিন।
.          মুল বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিন
কাজের জন্য আপনার যাকিছু প্রয়োজন সবকিছু ঠিকমত আছে কিনা নিশ্চিতকরুন। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, বিশেষ সফটঅয়্যার ইত্যাদি থেকে শুরু করে কাজের জন্য যাকিছু প্রয়োজন সবকিছুই। কাজের মাঝখানে এসবের জন্য সময় ব্যয় করা অর্থ সময় নষ্ট করা এবং কাজের ক্ষতি করা।
.          নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানুন
আপনি কোন কাজে সবচেয়ে ভাল, কোন কাজ কতটা করতে পারেন জানার চেষ্টা করুন। আপনি কি কাজ করতে চান, সেজন্য কি কি জানা প্রয়োজন আগেই জেনে নিন। আপনি যদি কাজের সময় ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে কাজ করেন তাহলে নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে এবং সময় অপব্যয় হবে।
.          কি করতে হবে সেটা জানুন
যে কাজ করবেন সেকাজ কিভাবে করতে হয় ভালভাবে জেনে নিন। প্রয়োজনে অন্যরা কিভাবে করে দেখে নিন। যারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন তারা সহজ কিছু নিয়ম তৈরী করে নেন। সেগুলি জানা থাকলে ভাল ফল পাবেন।
.          সবকিছু গোছানো রাখুন
আপনার চারিদিকে সবকিছু ছড়ানো-ছিটানো থাকলে এজন্য সময় নষ্ট হতে পারে। প্রয়োজনীয় একটি কাগজ খুজতে যদি সময় ব্যয় করতে হয় সেই সময় কোন কাজে লাগানো যায় না।
.          খবর রাখুন
ফ্রিল্যান্সারকে সবসময় পরিবর্তনের খবর রাখতে হয়। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তণ হচ্ছে, তারসাথে মানিয়ে চলুন। হয়ত আপনি যে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করছেন তারচেয়ে ভাল সেবা চালু হয়েছে, যে সফটঅয়্যার ব্যবহার করছেন তার উন্নত সংস্করন বের হয়েছে। এগুলি আপনার সময় বাচাতে পারে।
.          বিশ্রাম নিন
বেশি সময় কাজ করলে বেশি ফল পাওয়া যায় একথা বাস্তবে কখনো পাওয়া যায়নি, বরং সবসময় দেখা গেছে যারা বিশ্রাম নিয়ে কাজ করেন তারা অল্প সময়ে বেশি কাজ করেন। বিশ্রাম বাদ দিয়ে কাজ করবেন না।
.          সময়মত শুরু করুন
কাজ হাতে রেখে পরে করব বলে বসে থাকবেন না। যা করতে হবে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন। সাধারন এই ভুলটি অধিকাংশ মানুষই করেন এবং শেষমুহুর্তে তাড়াহুড়ো করে বিপদে পড়েন।
.          অন্য বিষয়গুলি ঠিক রাখুন
কাজের জন্য অন্যদের সাথে সম্পর্ক, যোগাযোগ ইত্যাদি বাদ দেবেন না। অনেক সময়ই দুটিতে বিরোধ বাধতে পারে কিস্তু আপনার দুটিই প্রয়োজন।
.          শান্ত থাকুন
নিজেকে যত শান্ত রাখতে পারেন কাজ থেকে তত ভাল ফল পাওয়ার সম্ভাবনা। বক্সিং এর ক্ষেত্রে একটা কথা প্রচলিত, যে বক্সার রেগে তেড়ে যায় সে হারে। যে বিপদেও মাথধা ঠান্ডা রাখতে পারে সে সফল হয়।
.          কাজ চালিয়ে যান
ফ্রিল্যান্সরের অসন্তুষ্ট হওয়ার মত কারনের অভাব নেই। ক্লায়েন্টের কারনে, পেমেন্টের কারনে, কাজের ধরনের কারনে থেকে শুরু করে পারিপার্শিকতার কারনে বিরক্ত হতে পারেন। নিজেকে বলুন, ধৈর্য্য ধরে কাজ করে যাওয়া ছাড়া সমস্যা এড়ানোর অন্য পথ নেই।
নিজের জন্য একটি রুটিন তৈরী করে নিন। সকালে কখন ঘুম থেকে উঠবেন থেকে শুরু করে কোন কাজ কখন করবেন ইত্যাদি সেখানে লিখে রাখুন। অবশ্যই আপনাকে অফিসের নিয়মে মিনিট হিসেবে কাজ করতে বলা হচ্ছে না (তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সার কেন ?), বরং একে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করুন।
আপনার কোন অভিজ্ঞতা বা মতামত অন্যদের জানাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজে মুল্য নির্ধারন

ফ্রিল্যান্সিং কাজে মুল্য নির্ধারন

আপনি যখন ফ্রিল্যান্সার তখন কাজের মজুরী বা মুল্য যাই বলুন না কেন সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আপনার। আপনি বলে দেবেন অমুক কাজের জন্য কত পারিশ্রমিক নেবেন। অনেক সময় এর ওপর নির্ভর করে আপনি কাজটি পাবেন কিনা।
পারিশ্রমিক কি এমনভাবে ঠিক করা যায় যা থেকে আপনার কাজ পেতে সুবিধে হবে ? ক্লায়েন্টকে আগ্রহি করা যাবে ? পারিশ্রমিক ঠিক করার সময় লক্ষনীয় বিষয়গুলিই বা কি ? একাধিক ধরনের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা কি করা যায় ?
আপনার চারিদিকের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিস্ঠানের দিকে একবার দৃষ্টি দিন। অমুক দোকানে বলা হচ্ছে বিশাল অফার। বিশেষ সময়ের জন্য হ্রাসকৃত মুল্যে বিক্রি। আরেক কোম্পানী বলছে একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি। আরেক কোম্পানী বলছে ১ মাসের জন্য ফি এত, ১ বছরের জন্য হলে এত।
এই বিষয়গুলিকে কাজের মুল্য নির্ধারনে ব্যবহার করুন। বিশেষ সময়ের জন্য কম খরচে সেবা দেয়ার সুবিধে হচ্ছে এই সময়ে আপনি বেশকিছু ক্লায়েন্ট তৈরী করতে পারেন। আর দীর্ঘকালীন কাজের সম্ভাবনা থাকলে অনায়াসে কাজের মুল্য কম নিতে পারেন।
কাজের মুল্য ঠিক করার জন্য যে বিষয়গুলির দিকে দৃষ্টি দিতে পারেন;
.          ক্লায়েন্টের কাছে কি নিয়মিত কাজ পাবেন ? সেই কাজের পরিমান কত ? ৬ মাসে কিংবা ২ বছরে ? সেক্ষেত্রে আপনি দীর্ঘকালিন সময় হিসেব করে মুল্য নির্ধারন করতে পারেন। যেহেতু পরবর্তীতে আপনাকে ক্লায়েন্ট খুজতে যেতে হচ্ছে না সেহেতু আপনার সময়-অর্থ-শ্রম ইত্যাদির শাস্রয় হচ্ছে। কাজেই আপনি তাকে সুবিধে দিতে পারেন। যদি সে সম্ভাবনা না থাকে তাহলে আপনি সাধারন পারিশ্রমিক নেবেন এটাই সংগত।
.          একই সময়ে যদি একাধিক কাজ করতে হয় তাহলে বেশি কাজের জন্য খরচ কমাতে পারেন। দোকানে আপনি বেশি জিনিষ কিনলে যেমন সুবিধে পান সেই নিয়মে। আগেই এজন্য মুল্য নির্ধারন করে রাখুন এবং ক্লায়েন্টকে জানান।
.          নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রচারের জন্য কম লাভে ব্যবসা করতে হয়। আপনার যদি যথেষ্ট পরিচিতি না থাকে তাহলে পরিচিতি বাড়াতে কিছু সময়ের জন্য তুলনামুলক কম পারিশ্রমিক নিন। কত সময়ের জন্য সেটা আগেই ঠিক করে নিন।
যা করবেন না তা হচ্ছে;
.          মুল্য কমানোর জন্য কাজের মান খারাপ করবেন না। ক্লায়েন্ট আপনার কাজের মানের কথা মনে রাখবেন এবং পরবর্তিতে কাজ দেবেন কিনা সেটা প্রশ্নের সম্মুখিন হবে।
.          বিনামুল্যে কাজ করবেন না। যে বিনামুল্যে কিছু আশা করে সে সবসময়ই সেটাই আশা করে।
.          এক কাজের খরচ অন্য কাজের সাথে যোগ করবেন না। প্রতিটি কাজের মুল্য আলাদা আলাদাভাবে বুঝে নিন। যদি কোন কাজের মুল্য ছেড়েও দিতে হয় সেটা সেই কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।
.          বাকি রাখবেন না। যদি এই পেশায় নতুন হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখুন, বাকি ক্রমাগত জমতে থাকবে এবং একসময় তিনি আপনাকে ছেড়ে আরেকজনের কাছে বাকি শুরু করবেন।
আপনার নিজের কোন বক্তব্য বা অভিজ্ঞতার কথা অন্যদের জানাতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং : গুপ্তধন খুজুন

ফ্রিল্যান্সিং : গুপ্তধন খুজুন

গুপ্তধন খুজতে সবাই পছন্দ করে। এনিয়ে গল্প-উপন্যাস, মুভি থেকে শুরু করে গেম পর্যন্ত রয়েছে। এগুলি থেকে আপনি সত্যিকারের ধনরত্নের মালিক হতে পারেন না, তবে আনন্দ পান। আর ফ্রিল্যান্সিং কাজে গুপ্তধন খুজে ধনরত্ন পেতে পারেন।
গুপ্তধন হচ্ছে এমনকিছু যা কাছেই রয়েছে অথচ আপনি দেখছেন না। আরেকবার ভালভাবে দৃষ্টি দিন, দেখবেন সেগুলি বের করা সম্ভব, কাজে লাগানো সম্ভব। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কিভাবে কোন ধরনের গুপ্তধন খুজে বের করতে পারেন জেনে নিন।
.          পুরনো ক্লায়েন্ট
একসময় কারো কাজ করেছেন এরপর কাজ না থাকায় তার কথা ভুলে গেছেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। হয়তো তিনি যোগাযোগ করেননি, আপনিও করেননি। তারকাছে কি নতুন করে কাজ পাওয়া সম্ভব ?
অবশ্যই। তিনি যদি আপনার কাজে সন্তুষ্ট থাকেন আপনি যোগাযোগ করলেই তিনি খুশি হবেন। তার নিজের অথবা পরিচিত কারো কাজের সন্ধান দেবেন।
.          যে বই পড়েননি
বই কেনা অনেকের কাছে নেশার মত। বই কিনে সেটা তখনই পড়বেন এমন কথা নেই, পড়ব বলে রেখে দিয়েছেন কিন্তু পড়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও সেটা করি।
এধরনের কোন বই কি আপনার আছে যা পড়া হয়নি। কেনার সময় নিশ্চয়ই কিছু একটা কারনে কিনেছিলেন। এখন সেই কারনটাকে কাজে লাগান। হয়থ তখনকার চেয়ে বর্তমানে বেশি কাজে লাগবে।
.          পুরনো যোগাযোগ
প্রথম ক্লায়েন্ট কিভাবে পেয়েছিলেন সেটা কি মনে আছে? কিভাবে পেয়েছিলেন ? সময়ের সাথে হয়ত পদ্ধতি পাল্টেছেন। পুরনো পদ্ধতি আরেকবার ব্যবহার করে দেখুন। আগের চেয়ে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারেন।
.          উপহার
আপনি হয়ত বিভিন্ন সময়ে নানারকম উপহার বা বিনামুল্যের জিনিষপত্র সংগ্রহ করেছেন। অনলাইনে নিউজলেটার কিংবা ইবুক, বাস্তবে কোন বুকলেট। সাধারনভাবেই এগুলিতে মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয় না। আপনিও দেননি। নতুন করে আরেকবার দৃষ্টি দিন। একটিমাত্র বাক্য, একটি লিংক আপনার কাছে গুপ্তধনের মত উপকারী হতে পারে।
.          যে ব্লগ বা ওয়েবসাইট দেখা হয়নি
আপনি হয়ত নিজের নিয়মিত কাজে এতই ব্যস্ত যে নতুন নতুন ব্লগ-ওয়েবসাইট তৈরী হচ্ছে, আগেরগুলোতে নতুন নতুন বিষয় যোগ হচ্ছে সেগুলি দেখা হয়ে ওঠেনি। আরেকবার নতুন করে সার্চ করে দেখুন। যে কাজগুলি আপনি করেন তারসাথে সম্পর্কিত কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করুন। এমনকিছু তথ্য পেতে পারেন যা আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।
.          স্থানীয় যোগাযোগ
ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করার সময় অনেকেই স্থানীয় বিষয়গুলিকে ভুলে যান। সেখানেও ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থনীতি কিংবা প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে সেকানেও নতুন নতুন কাজ সৃষ্টি হচ্ছে। আরেকবার যোগাযোগ করুন পুরনো বন্ধুদের সাথে, সেখানেও কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা।

গুপ্তধন খোজার সাধারন নিয়ম নিশ্চয়ই জানেন। একাজে তাড়াহুড়ো চলে না। সময়ের চেয়ে বুদ্ধি বেশি ব্যবহার করতে হয়। চেষ্টা করলে আপনিও সফল হবেন। আপনি সেই গল্প নিশ্চয়ই জানেন যার বাড়িতে বহু স্বর্নমুদ্রা লুকানো ছিল। সে কখনো খুজে পায়নি, দরীদ্রভাবে জীবন কাটিয়ে মৃত্যবরন করেছে। সে খুজে পায়নি কারন সে খোজার চেষ্টা করেনি।

আউটসোর্সিং-ক্রাউডসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায়

আউটসোর্সিং-ক্রাউডসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায়?

আউটসোর্সিং-ক্রাউডসোর্সিং-ফ্রিল্যান্সিং এই শব্দগুলি ইদানিং এত বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে যে আপনি নিশ্চিতভাবেই ধরে নেয়া যায় আপনি শুনেছেন। অন্তত সরকার যখন বারবার বলছেন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মধ্যম আয়ের দেশে কিংবা ধনী দেশে পরিনত হবে, কিংবা আউটসোর্সিং হবে দেশের প্রধান আয়ের উতস।
কথাগুলো বলা হলেও স্পষ্ট করে উদাহরন দেয়া হয়নি। সম্ভবত আপনিও জানতে চাননি। অপেক্ষা করছেন যখন সেই সুযোগ আসবে তখন কাজে লাগাবেন। যদি নিজে থেকে উদ্দ্যোগি হয়ে জানতে চান তাহলে সংক্ষেপে জেনে নিন বিষয়গুলি আসলে কি। হয়ত নিজেকে সেজন্য প্রস্তুত করতে পারেন।
আউটসোর্সিং
কোন কোম্পানী বা প্রতিস্ঠান তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজন হিসেব করে লোক নিয়োগ দেবেন এটাই স্বাভাবিক। যেমন ধরুন কোন প্রতিস্ঠানের একটি কাষ্টমাইজ সফটঅয়্যার তৈরী করা প্রয়োজন। সেই প্রতিস্ঠান সেই কাজের উপযোগি প্রোগ্রামার খোজ করতে পারেন। কাজ অনুযায়ী একজন কিংবা বহুজন।
এই পদ্ধতির সমস্যা হচ্ছে, সবচেয়ে দক্ষ প্রোগ্রামার পাওয়া যাবে এমন কথা নেই, প্রোগ্রামারদের জন্য মাসিক বেতন দিলে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করতে হয়, নির্দিস্ট কাজ শেষে তাদের করানোর মত কাজ নাও থাকতে পারে। এককথায় লোক নিয়োগ দিলে একদিকে দক্ষতার সমস্যা অন্যদিকে খরচ বৃদ্ধি।
এর সমাধান হতে পারে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে। তারা কাজটি এমন কাউকে (ব্যক্তি বা প্রতিস্ঠান) দেবেন যারা কাজটি করে দেবে। যদি ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ হয় তাহলে সারা বিশ্বের যে কোন যায়গা থেকে দক্ষ ব্যক্তি যেমন পাওয়া যাবে তেমনি প্রতিযোগিতামুলক খরচে করা যাবে। এটাই আউটসোর্সিং। আপনার যে লোকবল নেই সেই লোকবল বাইরে থেকে ব্যবহার করা।
আপনি কিভাবে এতে অংশ নিতে পারেন ?
আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ খুজতে পারেন। যারা আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কাজ করার তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের কাজের কথা জানান। আপনি সেই কাজ করার আগ্রহ দেখাতে পারেন। অর্থাত নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞা, লোকবল এবং অন্যান্য যাকিছু প্রয়োজন এগুলি থাকলে সেটা উল্লেখ করে কত খরচে, কত সময়ে কাজটি করে দিতে পারেন জানাবেন। তারা সন্তুষ্ট হলে আপনি কাজ পাবেন। সাধারনত আউটসোর্সিং এর জন্য প্রতিস্ঠঅন বা কয়েকজনের দল প্রয়োজন হয় যেখানে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি থাকেন।
ক্রাউডসোর্সিং
আউটসোর্সিং এর জন্য আপনি প্রতিস্ঠান বা দল গড়বেন, অথবা কোন দলে যোগ দেবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান ?
সে সুযোগও রয়েছে ভালভাবেই। আউটসোর্সিং এর চেয়ে ছোট কাজের কথা ভাবুন। কোন ব্যক্তি (বা প্রতিস্ঠান) তাদের লোগো তৈরী করিয়ে নিতে চায়। তারপক্ষে নিশ্চয়ই একজন্য কাউকে চাকরী দেয়া সম্ভব না। তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে একাজে দক্ষ কাউকে খোজ করতে পারেন। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তিনি তারকাছে কাজটি করিয়ে নেবেন।
একজন ব্যক্তির পক্ষে যোগাযোগ করে আরেকজনকে খুজে বের করার কাজটি জটিল। এখানে ভুমিকা নেয় কিছু প্রতিস্ঠান। আপনি যদি কাজ করার জন্য কাউকে খোজে তাহলে তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন, এই প্রতিস্ঠানগুলি তাদের ওয়েবসাইটে সেগুলি জমা রাখবে। আপনি যদি কাজ খুজতে চান তাহলেও সেখানে যোগাযোগ করবেন। কাজের লিষ্ট দেখে পছন্দের কাজের জন্য আবেদন করবেন। প্রতিটি কাজ যেহেতু দেয়া হচ্ছে সারা বিম্বের বিপুল পরিমান মানুষের সামনে সেহেতু এর নাম ক্রাউসসোর্সিং।
আপনি যদি ক্রাউসসোর্সিং পদ্ধতিতে কাজ করতে চান তাহলে আপনার প্রয়োজন কি করতে চান সেটা ঠিক করা (ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েবসাইট তৈরী, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি যেকোন কিছুই হতে পারে), সেই কাজে দক্ষতা অর্জন করা, কোন ক্রাউডসোর্সিং সাইটের সদস্য হওয়া (সাধারনত এজন্য কোন ফি দিতে হয় না), এরপর নিয়মিত তাদের সাইটে কাজের লিষ্ট দেখে সেখানে আবেদন করা।
আপনার প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট সংযোগ সহ কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা।
ফ্রিল্যান্সার, ও-ডেস্ক ইত্যাদি অত্যন্ত নামকরা প্রতিস্ঠান। তাদের সাইটে সবসময়ই হাজার হাজার কাজ জমা থাকে। সত্যি বলতে কি, এমন কোন কাজ নেই যা তাদের কাছে পাওয়া যায় না।
ফ্রিল্যান্সিং
ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে কাজের চুক্তিতে কাজ করা। আপনি যদি কারো জন্য দুপৃষ্ঠা লিখে ৫০০ টাকা নেন সেটা ফ্রিল্যান্সিং। কিংবা যদি কারো অনুষ্ঠানে ছবি উঠিয়ে সেজন্য ২০০০ টাকা নেন সেটাও ফ্রিল্যান্সিং। আপনার সাথে চুক্তি সেই বিশেষ কাজ এবং সেজন্য পারিশ্রমিক এই দুইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদি চারিদিকে দৃষ্টি দেন দেখবেন স্থানীয়ভাবে প্রায় সব পেশাতেই ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন।
ফ্রিল্যান্সারএর মুল সুবিধে হচ্ছে তারা যেহেতু চাকরী করেন না তা দীর্ঘ্য কালীন চুক্তি করেন না সেহেতু তাদের স্বাধীনতা বেশি। অন্যদিকে অসুবিধে হচ্ছে নিজের কাজ নিজেকেই খুজে নিতে হয়, সুনাম-দুর্নাম সবই নিজের, লেনদেনের কাজ নিজেকেই করতে হয়।
ইন্টারনেট ফ্রিল্যান্সিং কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আউটসোর্সিং কিংবা ক্রাউডসোর্সিংকে অনায়াসে ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। বস্তুত ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে এতটাই জনপ্রিয় যে বহু মানুষ চাকরী ছেড়ে ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন। একটি লোগো ডিজাইন করে ৩০০ ডলার কিংবা ওয়েবসাইট ডিজাইন করে ৫০০ ডলার, এরসাথে তুলনা করার মত চাকরী পাওয়া যখন কষ্টকর।
আপনি যদি এদের কোনটি ব্যবহার করতে চান, প্রস্তুতি নিন। এজন্য সবচেয়ে ভাল যায়গা ইন্টারনেট। নানারকম তথ্য দেয়ার জন্য শতশত ওয়েবসাইট রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সদস্য হোন। দেশ ধনী হোক বা নাহোক আপনি নিজে ধনী হওয়ার সুযোগ পাবেন। আর আপনার মত অনেকেই যখন ধনী হয় তখনই দেশ ধনী হয়।

ফ্রিল্যান্সিং কাজে নিজেকে প্রফেশনাল হিসেবে তুলে ধরা

ফ্রিল্যান্সিং কাজে নিজেকে প্রফেশনাল হিসেবে তুলে ধরা

স্থানীয়ভাবে আপনি অন্তত বাংলাদেশে অনেক পেশাদার পাবেন যাদের প্রধান বক্তব্য, আমি পেশাদার। একথা বলে তারা যা বুঝান তা হচ্ছে তিনি টাকা ছাড়া কাজ করবেন না, কথাও বলবেন না।
আপনি তাকে কাজ দিলেন, টাকাও অগ্রিম দিলেন। তারপর দেখা পেলেন সত্যিকারের পেশাদারিত্ব। অমুক কারনে কাজ হয়নি, তমুক দিন খোজ নেন, এই টাকায় কাজ এমনই হয়। কারনের অভাব নেই। একসময় আপনার ধারনা হল তার পরিচিতির জন্য শব্দটি প্রফেশনাল বা পেশাদার না হয়ে বাটপার হলে মানানসই হত।
আপনি নিশ্চয়ই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এমন সুখ্যাতি চান না। ফ্রিল্যান্সার নিজেই নিজের প্রতিস্ঠান, নিজেই ব্রান্ড। সময় যত গড়াবে খ্যাতি বাড়বে, সেইসাথে কাজের মান এবং অর্থ।
এজন্য আপনার প্রয়োজন নিজেকে প্রফেশনাল হিসেবে তুলে ধরা। কিছু নিয়ম মেনে আপনি সেটা করতে পারেন সহজেই।
.          যোগাযোগর পদ্ধতির উন্নতি করুন
আপনার সেরা কাজ ক্লায়েন্টের কাছে তুলে ধরে জোরের সাথে বলুন আমি এই মানের কাজ করি। কাজ পাওয়ার জন্য ধর্না দেবেন না। সম্ভব হলে ই-মেইল ব্যবহার করুন, এতে মোবাইল ফোনের থেকে বেশি পেশাদারিত্ব প্রকাশ পায়। নিজের সময় বাচে।
.          ক্লায়েন্ট যা চান না সেটা দেবেন না
ক্লায়েন্ট যা চান ঠিক সেটাই দিন, কম না বেশিও না। তিনি আপনাকে কম টাকা দিলে যেমন নেবেন না, বেশি দিলে আপনার গ্রহন করা উচিত না, ঠিক তেমনি। অনেকে মনে করেন বেশি কাজ করে তাকে খুশি রাখলে পরবর্তীতে কাজ পাওয়া সহজ হবে। অভিজ্ঞতা বলে, এতে সুফল পাওয়া যায় না বরং নিজের ক্ষতি ডেকে আনা হয়।
.          কাজ দেয়ার আগে ভালভাবে যাচাই করে নিন
আপনি যে কাজ নিচ্ছেন সেটা আপনি কতটা ভালভাবে করতে পারেন, কোথাও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, হলে কি করবেন এগুলি যাচাই করে কাজ নিন। কাজ নেয়ার পর অপারগতা প্রকাশ করা পেশার জন্য ক্ষতিকর। আপনি সবই জানেন, সবই পারেন এটা অবাস্তব ধারনা।
.          পরবর্তী কাজের জন্য পরামর্শ দিন
কোন কাজ করার পর তাকে জানাতে পারেন পরবর্তী কাজ এভাবে করা যেতে পারে। এতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। আপনার নিজের আইডিয়া থাকলে সেটা জানান। এতে পরবর্তীকালে আপনার কাজ পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যদি কোন বক্তব্য থাকে তাহলে জানাতে পারেন অন্যদের।